সোমবার, জুলাই ১৮, ২০১৬

পতঙ্গ মন

দূর থেকে যা ভাবছি আলো
কাছে গিয়েই আঁধার কালো
পতঙ্গ মন আলোই তবু যাচে,
যতোই চোখে লাগুক ধাঁধাঁ
যতোই পথে পড়ুক বাঁধা
আলো ভেবে যাই আলেয়ার কাছে!

১২.০৮.২০১৫  © প্রদ্যোত

সর্বনাশী

কি জানি কি যাদু ছিল চাহনিতে
কি জানি কি মায়া ও মধু হাসিতে
কি হতে কি হলো জানিনা, সর্বনাশী!
না ছুঁয়েই ছুঁলে ভুলে কি নাভুলে
ভ্রমরেরা সব উড়ে এলো ফুলে
গেয়ে গেয়ে গান বলে দিতে 'ভালবাসি'।

২৮.০২.২০১৬ © প্রদ্যোত

আলোর শিশু

একটি কলি ফুটেছিলো
সবুজ-শ্যামল দেশে,
আলোর শিশু এসেছিলো
আলোর হাসি হেসে।
সেই আলোটা ক্রমেক্রমে
আলোর তুফান হয়ে,
ছড়িয়ে গেল সকলখানে
পড়লো আঁধার ক্ষয়ে।
সবার প্রিয় আলোর কবি
বজ্রপাতের মতো,
বজ্রকন্ঠে ঝংকার তুলে
সরায় আঁধার যতো।
আলোয় আলোয় সৃষ্টি হলো
আলোর সমুদ্দুর,
আলোর নাওয়ে সওয়ার হলো
আলোর মুজিবুর।
তার জ্যোতিতে সজাগ হলো
মুক্তিকামী প্রাণ,
দৃপ্তকণ্ঠে গাইলো সবাই
স্বাধীণতার গান।
আমরা যারা আজকে শিশু
স্বাধীণ বাংলাদেশে,
ঘুমায় বুকে জাতির পিতা
স্নিগ্ধ হাসি হেসে।
আমরা যখন তরুণ হবো
ঘুম ভাঙাবো তার,
মিটাবো সব স্বপ্ন-আশা
সোনালী বাংলার।
(১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে ছোটদের জন্য রচিত)
০৩.০২.২০১৫  © প্রদ্যোত 

জীবন্মৃত

অনুভূতিগুলো লুকাতে লুকাতে
নয়নের জল শুকাতে শুকাতে
কবেই নিজেকে হারিয়েছি চিরতরে,
উতাল হাওয়া যতো দিক দোলা
চাঁদের কিরণে যতো প্রাণ খোলা
তার কোনো সাড়া পড়েনা মনের ঘরে।

২২.০৩.২০১৬  © প্রদ্যোত

মোহ

যতোই ভাবি এড়িয়ে যাবো
বাঁধন ছিড়ে বেড়িয়ে যাবো
ততই পরি নতুন মোহে বাঁধা,
হয়না পথে মুক্ত হওয়া
আপন ধ্যানে যুক্ত হওয়া
হয়না প্রাণে শাশ্বত সুর সাধা!

০৩.০৩.২০১৬ © প্রদ্যোত

খাচ্ছি সবই

খাবার জন্যই যেন জন্মেছি আমরা
খাদ্য-চক্রের অংশ ছাড়া আমরা কিছুইনা
নিজেদের কেমন করে দাবি করি
শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসাবে?
হ্যা, করা যায় সে দাবি-
কারণ, আমরা সর্বভুক
যে সব খেয়ে ফেলতে পারে নির্দিধায়
সে'ই তো শ্রেষ্ঠ, নয়কি?
বাঘ বা সিংহ ঘাস-লতা-সবজি খায়
বলে শুনিনি কখনো।
গরু বা ছাগলকে মাংশ খেতে
দেখেছেন কেউ?
অথচ, আমরা সব খাই।
ঘাস-লতা-গুল্ম-সবজি-মাংশ সব!
পৃথিবীর কোনো প্রাণী স্বজাতিকে মারে?
আমরা মারি!
হাজারো অত্যাধুনিক অস্ত্র বানাই
নিজেদের মারতে।
মেধাবী ছেলেগুলোকে মিলিটারি কমান্ডো বানাই
মনুষ্যকুল নিধনের জন্য!
কি খাইনা আমরা!
আজন্ম ক্ষুধা নিয়েই এসেছি ধরাধামে
আপনাকে যদি বলি, 'আপনি একটা
গরুরবাচ্চা!'
নিশ্চই তেড়ে আসবেন আমার দিকে,
শিং কাঁত করে!
আসলেই কি আমরা গরু বা ছাগলের
বাচ্চা নই!
পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর সন্তান
তার মাতৃস্তন্যের দাবিদার।
শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধই পারে একটি সন্তানকে
সাবলীল, মেধাবী, শক্তিমান, চৌকস ও
রোগমুক্ত রাখতে।
আমাদের মায়েরা -
শারীরিক সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে
শিশুকে নিজের স্তন্য পান করাতে নারাজ
বিকল্প হিসাবে গরু বা ছাগলের দুধ
ফিডারে ভরে খাওয়ান!
'গরুর দুধ পান করবে বাছুর,
ছাগলের দুধে তৃষ্ণা মিটাবে
ছাগলছানা' - এটাই প্রাকৃতিক।
আমরা তাদের প্রাপ্য হতে বঞ্চিত করে,
মুখে ঘাস তুলে দিয়ে,
নিজেরা পান করি সানন্দে!
হায়রে খাদ্যাভ্যাস আমাদের!
আমরা পশুত্তম!
অতঃপর, সেই ছাগল বা গরুটিকে
অতি পাশবিকভাবে হত্যাকরে,
নানান আকৃতিতে টুকরো টুকরো করে
কেঁটে,
রকমারি মশলায় মাখিয়ে,
বিবিধ কৌশলে রেঁধে,
ভক্ষণ করি মহানন্দে!
আহ! রানের মাংশের কি স্বাদ!
কলিজা-মগজ দিয়ে কত বাহারি খাবার!
ঘ্রানেই জিভে জল চলে আসে!
আচ্ছা, আমরাও তো প্রাণী, তাইনা?
এবং শ্রেষ্ঠ প্রাণী বলে দাবি করি!
তবে, নিশ্চই আমাদের মাংশ
সবচেয়ে সুস্বাদু হবে!
আরে, তাহলে আর দেরী কেন!
আসুননা, ঝাঁপিয়ে পড়ি একে অপরের
প্রতি।
কেঁটে টুকরো টুকরো করে,
বাহারি মসলায় মেখে,
তৈরী করি সুস্বাদুতম খাবার!
কচকচ করে খাই নিজেদের মাংশ!
আরে, শ্রেষ্ঠ প্রাণীর মাংশ যদি না'ই
খেলাম শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসাবে জন্মই
তো বৃথা!

© প্রদ্যোত

আজাইরা আকাম

দলাদলি গলাগলি
ঢলাঢলি ডলাডলি
অতঃপর করা গালমন্দ,
কোলাকুলি খোলাখুলি
দোলাদুলি ফোলাফুলি
অযথা বাড়ছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।
ধরাধরি গড়াগড়ি
লড়ালড়ি মরামরি
ছড়ায় কেবলই দুর্গন্ধ,
কাড়াকাড়ি বাড়াবাড়ি
মারামারি ছাড়াছাড়ি
সকল অকাজ হোক বন্ধ।

১২.০২.২০১৫  © প্রদ্যোত