বুধবার, মে ২৪, ২০১৭

বেকুব আলীর প্রেমিকারা(!)


_________ প্রইডিয়ট

প্রেম পাগলা বেকুব আলী
ডজন দুয়েক প্রেমে
বিষিয়ে ওঠে জীবন তবু
থাকেই না সে থেমে!
বিতৃষ্ণাতে একটা ছাড়ে
আর একটা ঠিক জোটে
নতুন প্রেমের জ্বালাতনেও
হাল ছাড়েনা মোটে!
তার সখীদের হরেক রকম
অ্যালার্জিটিক কর্মে,
বারেবারেই বিফলতার
আঘাত লাগে মর্মে!
একটা ছিল যৌনকাতর
কাজের বেলায় মৌন,
একটা ছিল ঘুমকাতুরে
ঘুম ছাড়া সব গৌন!
একটা ছিলো কুমড়োপটাশ
হাঁটতো হেলেদুলে,
একটা ছিলো পাটের কাঠি
হাগুর কালার চুলে!
একটা ছিলো বকবকানি
সিরিয়ালের পোকা,
একটা ছিলো গোমড়ামুখী
ভাব দেখানো বোকা!
একটা ছিলো ছিঁচকাঁদুনী
কথায় কথায় কান্না!
একটা ছিলো ফিল্মি ফ্রিক
প্রিয় নায়ক মান্না!
একটা ছিলো ঢঙ্গী খুবই
সবকিছুতেই ঢঙ!
একটা ছিলো বিউটি বক্স
মেকাপ করা সঙ!
একটা ছিলো মর্দা কিসিম
কন্ঠ ফাটা বাঁশ!
একটা ছিলো পেটের পীড়ায়
ভুগতো বারোমাস!
একটা ছিলো শর্ট টেম্পার্ড
মুহুর্তে অন গন!
সিজোফ্রেনিক অ্যটিটিউড
করতো সারাক্ষণ!
একটা ছিলো ভীষন মুডি
কথায় কথায় মুড!
একটা সে তো ফার্স্ট মিটিঙেই
করলো ফেলে ন্যুড!
একটা ছিলো সবজান্তা
বুঝতো দুলাইন ঢেড়!
একটা ছিলো চরিত্রহীন
পায়নি বেকুব টের!
একটা ছিলো টাইট ফিটিং-এর
একটা ছিলো ঢিলা,
একটা ছিলো শো-অফ করার
দেখিয়ে বুকের টিলা!
একটা ছিলো একরোখা খুব
সব কথা তার রাইট!
পান থেকে চুন খসলে পরে
জুড়েই দিতো ফাইট!
একটা ছিলো বেবোধ আবাল
একবারে না বোঝে!
একটা ছিলো সন্দেহ খুব
চরিত্রে খুঁত খোঁজে!
একটা ছিলো খুব পজেসিভ
স্বার্থ বোঝে আগে!
গছিয়ে নিতো সকল কিছু
যা লাগে তার ভাগে!
একটা ছিলো বদমেজাজি
আস্ত রাগের ভান্ড!
একটা ছিলো হাসতো শুধু
বাধিয়ে কুরু কান্ড!
একটা ছিলো খুঁতখুতে খুব
সব কিছুতেই উহ্!
একটা ছিলো খাশটে ভীষণ
গন্ধ! ওয়াক থুঃ!
একে একে বেকুব আলীর
বাড়ে প্রেমের লিস্টি!
চরিত্রহীন চরিত্রে তার
হরেক রঙের বৃষ্টি!
বকুব সেজে বেকুব আলীর
মিশন চলে নাইস!
মাইনক্যা চিপায় পড়বে যেদিন
সেদিন হবে সাইজ!

১৪.০৫.২০১৭

পার্থিব


______ প্রদ্যোত

যে পথটি ছিলো দূর্বাঘাসের
আমাদের খুব চেনা,
সে পথটি আজ কালো পীচে মোড়া
সওদাগরের কেনা!
যে আকাশ ছিলো দিনে নীলে নীল
রাতে আলোকিত চাঁদে,
সে আকাশ আজ কালো মেঘে ঢাকা
দিবানিশি শুধু কাঁদে!
যে বনানী ছিলো সবুজে সবুজ
ফুলে ফুলে সুবাসিত,
সে তরু লতারা শুকিয়েছে কবে
প্রানহীন ধূসরিত!
যে নদীতে ছিলো উত্তাল ঢেউ
জলের সতত ধারা,
সে নদী আজকে মরুভূমি যেন
নিষ্প্রাণ গতিহারা!
যে পাখি গাইতো ঘুমভাঙানিয়া
চির মোহনিয়া রবে,
সে পাখি কবেই উধাও হয়েছে
নাগরিক উৎসবে!
যে সময় ছিলো তোমার আমার
স্বপ্নের জালবোনা,
সে সময় গ্রাসে নিন্দিত ত্রাসে
শকুনের আনাগোনা!
যে হৃদয়ে ছিলো প্রেম ভালবাসা
শব্দিত চিরকাল,
সে হৃদয় জুড়ে জমেছে কেবল
পার্থিব জঞ্জাল!
যে তুমি আমার যে আমি তোমার
জনম জনম ধরে,
এ জনমে এসে হয়ে গেছি পর
নিজেদের অনাদরে!

২৪.০৫.২০১৭

সোমবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৭

প্রেমানুভবে ঈশ্বর

_________________ প্রদ্যোত

অনেক রাত
অনুভবে তোমার খুব কাছাকাছি আমি
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস দখিনা বাতাসে
তোমার খোলা বাতায়ন দিয়ে
ছুঁয়ে যাচ্ছে তোমার পেলব শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
প্রতি মুহুর্তে আলোড়িত হচ্ছে অনাঘ্রাত কুমারীর তনুলতা
আমার স্বত্ত্বা তোমাতে মিলে যাচ্ছে অন্তহীন সুখে শ্বাশত ভালবাসায়

তুমি কি অনুভব করছো আমার অস্তিত্ব তোমাতে
তোমার যে উষ্ণতা ছড়িয়ে পরছে অদূরে শয়নে
তা আমার কামনার অগ্নি থেকে উৎসারিত
কল্পনায় আমার অধীর ঠোট
তোমার অনন্ত কামাগ্নির জ্বলামুখে ডুবে যাচ্ছে ক্রমাগত
পাগলপারা আমার সমস্ত আকাংখা ক্রমান্বয়ে নিমজ্জিত তোমাতে
আমার তৃষ্ণা তোমার অধরের সুধা পানে আরো বর্ধিত
সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ অবধি প্রসারিত যেন

তুমিও পাগলপ্রায় আমাকে নিবিষ্ট বন্ধনে বেঁধে পরম সুখে বিলীন
তোমার কোমনীয় পেলবতা আমাকে গ্রাস করছে গভীর আকর্ষণে
তুমি-আমি একাকার এক অখন্ড মোহে
ছুঁয়ে তোমার সব সুন্দরতম সুখ-ভাস্কর্য্য
আমি উন্মাদ যেন মহাজাগতিক সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
দলিত-মথিত পরস্পরে যেন ক্রমাগত মিলিয়ে যাচ্ছি পরম শুন্যতায়

আমাদের নিবিড়তম আলিঙ্গনে
অন্ধকার আলোকিত হয় তারার আলোকসজ্জ্বায়
সৃষ্টি হয় অগুণতি ছায়াপথ,সৌরমন্ডল, নক্ষত্র, নিহারিকা, ধুমকেতু
সহস্র গ্রহে জাগে প্রাণস্পন্দন
সবুজে সবুজে ছেয়ে যায় গ্রহের মৃত্তিকা,বাড়ে তৃণ, বাড়ে বৃক্ষ
ফুলে-ফলে সুশোভিত প্রকৃতি আনন্দে মাতে
উচ্ছ্বল বাতাস বয়ে যায় ক্ষণে ক্ষণে
হাজারো প্রাণে পুলক জাগে প্রেমের

প্রেমেই সৃষ্টি, মিলনেই প্রসারিত মহাজগত
বিস্তার, অতিবিস্তার, মহাবিস্তারে বর্ধিত সৃষ্টির যাবতীয় সব
এভাবেই বাড়ে আমাদের প্রেমানুভূধিতযা ঈশ্বরেরই নামান্তর
নশ্বর থেকে অবিনশ্বর সবই আমাদের প্রেম-নিসৃত
অসীম বর্ণিল বর্ণহিনতায় পরম শূন্যে আমরা একক
আবার বিভাজিত পুনঃমিলনের আকাঙ্খায়

আমাদের স্বত্ত্বার অখন্ড বিভাজনে আমরা এক থেকে দুই
এবং দুই থেকে এক হই বারবার
অনন্তে আলোক কিংবা আলোকিত অনন্ত
যা সৃষ্টি, যা স্রষ্টা, যা এক ও অখন্ড স্বত্ত্বা অনন্তের জ্যোতি পরমেশ্বর
তা তোমার-আমার মিলনের বিস্তৃত প্রকাশ
তোমাতে বিলীন হয়ে আমি আমাকেই পাই খুঁজে
সকল পার্থিব কোলাহলকে উপেক্ষা করে
নিরবিচ্ছিন্ন নিরবতায় বারংবার হারাই দুজনে

স্রষ্টাকে পেতে একান্ত কাছে

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৭

ছেলেটি ও কচি পাতা

ছেলেটির সাথে ভীষন ভাব আমার
ওর চঞ্চলতা আর প্রত্যুৎপন্নমতিতার জন্যে
আমার সাথে ভাবের মাত্রাটা একটু বেশিই
এত্তোটুকু মানুষ, অথচ স্বকীয় পাকামিতে
কথার পিঠে কথা বলে চলে অবিরাম
মাঝে মাঝে ওর সাথে কথার পাল্লায় হেরেও যাই
ওর ইচরেপাকা কথায়
হেসে কুটিকুটি হতে হয় কখনো কখনো
মাত্রাতিরিক্ত ভাবের কারনে
প্রশ্রয়ও দিয়ে ফেলি মাঝে মাঝে
সেদিন সে নিতান্তই সাবলীল ভঙ্গিতে
আমার টবের গোলাপ গাছটার
নতুন গজিয়ে ওঠা একটা পাতা ছিড়ে ফেললো
যেন কিছুই হয়নি এমন একটা অভিব্যক্তি ওর
কেন যেন আমি ভীষন ক্ষেপে গেলাম
মুহূর্তেই ওর প্রতি জগতের বিস্বাদ নেমে এলো যেন
ছোট্ট দুষ্টু মিষ্টি ছেলেটাকে আমি ভালবাসি
তাতে কোনো সন্দেহ নেই
কিন্ত তার চেয়ে হাজারগুন বেশি ভালবাসি
আমার গোলাপ চারাটি
যার প্রতিটি নতুন পাতার আগমনের
প্রতীক্ষায় থাকি আমি
ছেলেটি বড় হয়ে হয়তো মানুষ(!) হবে
আর চারাটি নিশ্চই হবে সুরভিত ফুলে ঢাকা গাছ
২৩.০২.২০১৭

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬

সবই করি

পাগলা আমি পাগলামিটা আর করিনা
অভাব হলেও আর কখনো ধার করিনা
কারো কথায় আগের মতো আর নাচিনা
স্বপ্ন-ঘেরা দিনগুলোকে আর যাচি না
সবার জন্য বাঁচবো বলে আর বাঁচি না
সবার হাসির খোরাক হতে আর হাসি না
অসংগতি দেখলে পরেও আর কাঁশি না
ভালবাসি বলেই ভালো আর বাসি না
বেহিসাবী জীবন পথে আর চলি না
আপন পথের শপথ হতে আর টলি না
বেফাঁস কথা হাটের মাঝে আর বলি না
কুঁড়িয়ে কোনো কাঁন পেলেও আর মলি না
ডলা দেবার জিনিস পেলেও আর ডলি না
স্বপ্নগুলো মনের সূতায় আর বাঁধি না
হৃদয়-বীনে প্রেমের সুরটি আর সাধি না
লক্ষ-কোটি কষ্ট পেলেও আর কাঁদি না
আগের মতো কোনো কিছুই ফিল করি না
অহেতুক আর সময়গুলো কিল করি না
জীবন ঘুড়ির সূতোর নাটাই ঢিল করি না
অবাঞ্চিত কারো সাথেই ডিল করি না
স্বপ্নগুলো বাস্তবতায় মিল করি না
অনুভবের রং-তুলিতে রং করি না
দুঃখের মাঝে সুখে থাকার ঢং করি না
ছোট ছোট ব্যাপার গুলো লং করি না
হেঁড়ে গলায় বাথরুমেতে সং করি না
কিছুই আমি করি নাতা'ও হচ্ছে সবই করা
বারেবারে বাঁচতে গিয়ে হচ্ছে কেবল মরা
১৯.০৯.২০১৩

থাক্, বলবো না!

ফেলে আসা বিবর্ন সময়ে আলো ফেললে
তাতে কি বর্তমান আলোকিত হয়, হয় না
অতীত ভুলের আবর্জনা ঘাটলে
দুর্গন্ধই ছড়ায় কেবল
সুদীর্ঘ অবহেলায় পরিপাটি পথে
শ্যাওলার যে আস্তরণ পড়ে
তা পরিষ্কার করতে যাওয়া বিরম্বনাই শুধু
তবে কেন অনাহুত অতীতের জাবর কাটা
জ্বালাময় স্মৃতিকে বিস্মৃতির আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলা
সেই কি ভালো নয়?
প্রতিটি বর্তমান ক্রমাগত অতীত হয়
বিবিধ বর্ণের অতীত, বহুবিধ জ্বালাময়
বিস্মৃতির আস্তাকুড় ভরে ওঠে স্মৃতির আবর্জনায়
অস্তিত্বের শংকা বাড়ে
দ্রোহের অনলে সবাক হতে চায় চিত্তের প্রকাশ
কী এক অসাড়তায় থমকে যায় পরক্ষণেই
বিস্মৃতির আবর্জনায় স্বত্ত্বাকেই বিলীন করতে
উদ্যত হয় মন
কী লাভ দ্রোহের বহিঃপ্রকাশে
থমকে যাওয়াই শ্রেয়তর হয়তো!
২০.০৯.২০১৬

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬

Turtledoves - Love Immortal (Knows No Rule)

You and me
Both are in love
Only God knows
We're turtledoves
Time's a barrier
Here on Earth
Why there's distance
In our birth
I know you're
The one for me
But, how can I express
My love for thee
In love and war
Everything's fair
I'm waiting for the day
When we'll share
Why not holy love
Makes us dare
God must allow
That we always care
Why do you fear
To express thy thee
I'm just waiting
For you to be free
Come on my sweetheart
Here in my arms
Let us share
The heavenly charms
Why do we waste
Our golden time
For holy love
That must be a crime
Don't hesitate
To make a decision
Losing time will
Break our passion
Break all barrier
Come on my love
As God's made us
Two turtledoves
16.09.2012

মেয়ে, তোমার মেয়ে হওয়াই পাপ!

ছোকড়া বুড়ো যাচ্ছে সবাই
প্রেমের স্রোতে ভেসে,
যখন তুমি মধুর করে 
উঠছো মেয়ে হেসে!
কারোর সাথে মিষ্টি কথন
তোমার কি আর সাজে!
পরশি মাসি, পাড়ার বুড়ি
বলবে তোমায় বাজে!
কেমন চলা, কেমন বলা
কেমন পরিধেয়,
এসব নিয়ে হচ্ছে দেদার
তোমায় করা হেয়!
মানুষতো নও, পণ্য তুমি
দেখছে যেমন লোকে,
নখ থেকে চূল সর্বদেহ
চাটছে তোমায় চোখে!
এটা নিষেধ সেটা নিষেধ
ওটাও করা বারণ,
পশুত্বকে করবে জাহির
শুধাও যদি কারন!
সহ্য করেই রইলে ভালো
নইলে পড়বে রোষে,
জন্ম তোমার আজন্ম পাপ
জীবণ ভরা দোষে!
০৫.০৯.২০১৬

দ্য ম্যানিম্যাল

আমরাকি শুধুই স্তন্যপায়ী মেরুদন্ডি অ্যানিম্যাল! 
সম্ভবত এর চাইতে ঢের অধিক কিছু 
প্রতিটি প্রাণীর অল্প কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে
অথচ হোমো স্যাপিয়েন্ছের বৈশিষ্ট্য অসীম
আবার একটার সাথে অপরটার বিস্তর তফাৎ
জ্যামিতির কোনো সূত্রেই
দুটি দ্বিপদী শ্বাপদকে সর্বসম প্রমাণ করা যাবে না
নিজেকে যদি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ (অবাস্তব!) পরিস্থিতিতে এনে
নিবিড় ভাবে বিশ্লেষণ করা যায়
দেখা যাবে
সৃষ্টির নিকৃষ্টতম প্রানীদের স্বভাবও
আমাদের মাঝে বিদ্যমান
পোকামাকড় থেকে শুরু করে
হিংস্রতম জানোয়ারের চরিত্রাবলিও ধারণ করি আমরা
একের মধ্যে বহুর সম্মিলন
ম্যানি অ্যানিম্যালস ইন ওয়ান
উই আর দ্য মিক্সচার অব অল বিস্টস্
দ্য বেস্ট বিস্ট অন আর্থ
দ্য ম্যানিম্যাল
বড়ই বৈচিত্র্যময় আমাদের গুনাবলীসমূহ(!)
বার্ডস আই ভিউ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে
নিজেদের কর্মকান্ড দেখে
হয় মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়তে হবে
"কি আজব চিড়িয়া আমরা!", বলে হাপিত্তেশ করে
নয়তো হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়ে
অকস্মাৎ স্ট্রোক করে
ত্যাগ করতে হবে অপ্রদর্শনীয় জান্তব দেহখানা
- হায় রে! তথাকথিত সৃষ্টির সেরা জীব(?)
- "আবে কইছে কুন হালায়! হ্যায় খাইয়া আইছে! না কি যাইয়া খাইবো!"

শুক্রবার, জুলাই ২২, ২০১৬

হাড্ডি গুড়ো করে ফেলবো!

ঝাড়ু চেনো, ঝাড়ু! ঠেঙ্গি, শরকি!
দাঁ চেনো! রামদা, বটি! খোন্তা, বল্লম, চাপাতি!
সুন্দরী বা গজারীর লাঠি নিশ্চই চেনো!
পূর্বপুরুষের কৃতকর্মের ধারাবাহিকতায় এক পা এগিয়েছ তো
হাড্ডি গুড়ো করে ফেলবো!

অনেক জ্বালাতন সহ্য করেছে আমার পূর্বপুরুষ
টানা চারটি দশক আমরা জানতেই পারিনি সত্য
সব সত্যকে চাপা দেয়ার নানাবিধ অপপ্রয়াস হয়েছে!
যারা তা করেছে হয় তারা মানসিক বিকারগ্রস্থ
নয়তো সংক্রামক ব্যাধি-আক্রান্ত ভারসাম্যহীন!
মুখে ফেনাতুলে আবোল-তাবোল কি বলে যায়
নিজেরাই বোঝে কিনা সন্দেহ!
অবশেষে প্রকাশ্যেই হয় দিগম্বর দশা!

দেখেও শেখোনা!
পৃথিবীতেই পেয়ে যেতে হয়
প্রতিটি কৃতকর্মের ফল!

তোমাদের অজ্ঞ বলে ধিক্কার দেবোনা
কারণ, তোমাদের আশৈশব নানা কৌশলে
ওদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অজ্ঞ করে রাখা হয়েছে!

এখনো সময় আছে
ভুজুং ভাজুং ছেড়ে
অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে আলোতে আসো
ইতিহাসের মাঝ্ডালে বাঁদর-ঝোলা ঝুলোনা!
সন্ধান করো শেকড়ের
জানো প্রকৃত ইতিহাস
মুর্খ্যের মতো বিকৃত ধারায় নষ্ট হয়োনা!
নষ্ট করোনা কষ্টার্জিত স্বাধীনতা আর
তোমার-আমার দেশের ধন সম্পদ সম্ভ্রম!

আর যদি একান্ত এক্গুয়েমিতেই থাকো!
বলেছি না!
লাঠি, ঠেঙ্গি, সুন্দরীর কঁচা!
হাড্ডি গুড়ো করে ফেলবো!

●●● প্রদ্যোত

২৫ মার্চ (১)

আজ এখানে অনেকের আনাগোনা
শোকের পোশাকে সুগন্ধির প্রলেপ
চারিদিকে আলো আর রঙের ঘনঘটা

অথচ,সেদিন! ঠিক এই সময়ে, এই একই স্থান
ছিল নিকষ অন্ধকার আর শ্মশানের নিস্তব্ধতা
চারিদিকে আতংক! ব্লাক-আউট!

ঘুটঘুটে কালো অন্ধকারে একদল হায়না রক্ত-পিপাসায় উন্মত্ত
সাজোয়া ট্যাংক ছুটছে যত্রতত্র
বেশুমার এলোপাতাড়ি মেশিনগানের গুলি
কি এক বিভীষিকা! অপারেশন সার্চ-লাইট(?)
কি এক অবর্ণনীয় পাশবিকতা! অগনিত মৃত্যুর কলংকিত অধ্যায়

রাজপথ, বাসাবাড়ি, বিপনিকেন্দ্র, রাজারবাগ পুলিশ-লাইন
অলিগলি সর্বত্র নির্বিচার পাশবিক নিষ্ঠুরতায়
বুলেটে, বেয়নেটে, বুটের আঘাতে
ব্যথাতুর রক্তস্নাত রাজধানী!

মুহুর্মুহু গুলির শব্দে উদ্ভ্রান্ত মানুষ ছুটছে জীবনকে মুঠোয় পুরে
পিছনে তেড়ে আসছে বুলেট
কখন যে হাত ফসকে পরে গেছে কোলের শিশু!
হয়তো পায়ের নিচে কিংবা সাজোয়ার চাকায় পিষ্ট হয়ে
থেতলে বিকৃত হয়েছে মিষ্টি চাঁদমুখখানি!
এখানে-সেখানে অসংখ্য আহতের আর্তনাদ
কি নারকীয় সেই রাত!
একসাথে এত লাশ দেখেনি বাংলা আগে!

আজ যারা সমাগত এখানে
কন্ঠে কন্ঠ মেলাতে,ফেলতে দুফোঁটা অশ্রু
আসুন! অন্তরের ঘুমন্ত মানুষটিকে জাগিয়ে
আসুন! স্মৃতির জানালা খুলে দেই
বহুদিন মিথ্যার চাঁদর মুড়ি দেয়া সত্যকে উদঘাটন করি
হারানো যন্ত্রনাকে শক্তিতে রূপ দেই
চেতনার আলো জ্বালি ষোলো কোটি প্রদীপের
দূর করি আঁধারের বিভীষিকা
মঙ্গলালোকে দীপ্যমান হোক
একটি জাগ্রত বাংলাদেশ!

●●●প্রদ্যোত

মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০১৬

ছন্দরাজ্য গন্ধময়!

ছন্দের রাজ্যেতে
ছন্দেরই গোলমাল,
কবিতার লাইন যেন
ড্রেনের জঞ্জাল।
আবেগের বিভ্রাট,
বেসামাল ছন্দ,
কবিতার দেহ হতে
আসে দুর্গন্ধ।
দেশ জুড়ে আছে যত
হবু গবু কবি,
কাকের বকের ঠ্যাং
লেখে তারা সবই ।
বাথরুমে, টয়লেটে
কবিতার ছড়াছড়ি,
প্রেমে ছেঁকা খেয়েইত
কবিতায় হাতেখড়ি।
ওভারলোড হয়ে গেছে
কবিতার ভাণ্ড,
ফেদুরামও লেখে হায়!
এ কেমন কাণ্ড!

- প্রদ্যোত

নিরুদ্দেশ

নশ্বর দেহে ভস্মের পথে
ছুটছি সবাই ছুটছি
তবু অমরত্বের প্রত্যাশাতে
অযথাই মাথা কুটছি
জানছিনা কেউ কোথায় শুরু
কোথায় চলার শেষ
ঘোরের মাঝে ঘুরে ঘুরে
হচ্ছি নিরুদ্দেশ

© প্রদ্যোত

কিসের স্বাধীনতা!

যেখানে স্বাধীনতার
পয়তাল্লিশ বছর পরও
পরাজিত শক্তির দোসরদের পৈশাচিক দাপটে
তটস্থ থাকতে হয় প্রতিনিয়ত
সেখানে কিসের বিজয়! কিসের স্বাধীনতা!
যেদিন একটিও দেশদ্রোহী থাকবেনা এই মাটিতে
সেদিন বুঝবো স্বাধীনতাএসেছে!
প্রতিটি মানুষের মনে পরিপূর্ণ দেশপ্রেম জন্মালে
বুঝবো স্বাধীনতা এসেছে!
ষোলো কোটি মানুষের মৌলিক চাহিদা মিটলে
বুঝবো স্বাধীনতা এসেছে!
সবাই সমস্বরে যেদিন জাতীয় সংগীত গাইবে
সেদিন বুঝবো স্বাধীনতা এসেছে!
ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে স্বাধীনতা উৎসবে
জাতীয় সংগীত গাইতে চাইনা আর!

© প্রদ্যোত

আমি অভিনেতা হতে আসিনি

আমার চারপাশে অগনিত কুশীলব
যে যার পারফরমেন্স দেখাতে উদগ্রীব
দুর্দান্ত অভিনয় করে যাচ্ছে সবাই
শুধু আমি যেন কেন পেরে উঠছিনা
বারবার থমকে যাচ্ছি একটা জায়গায়
কি করব না করব ভেবেই সময় করছি পার
জীবন নাটকে সুচারু প্রানবন্ত উপস্থাপন আবশ্যক
যারা পটু অভিনেতা, তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন
না চাইতেই হাতের
কাছে পৌছে যায় সব মওকা
বিলাস বৈভব সব উছলে পরে
এই অভিনয় মানব জীবনে সার্বজনীন
তাই সকলে কম্প্রমাইজ করে নেয় সহজেই
আমি পারিনা, শুধু দেখি -
পয়মন্ত কুশিলবগন অতিক্রম করে যায় আমাকে
দেখি মুখস্ত মানুষের কাফেলা
কি নির্ধিদায় আমাকে পেছনে ফেলে
হাস্যকর দ্রুততায় এগিয়ে যায়
সবাই ব্যস্ত দিনমান নয়টা-পাঁচটা'র চক্করে
প্রতিদিনের একই ভূমিকায় অভিনয় করতে
এক ঘেয়েমিপনাও ছোয়না তাদের
আমি অমন রোবটিক জীবন-যাপন করতে পারবনা
কারণ আমি স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী
আমি অভিনেতা হতে আসিনি

© প্রদ্যোত

ক্ষুধার জ্বালা

আশৈশব আমরা কেবল
ক্ষুধার জ্বালায় মরি,
যেথায় যা পাই, তা সবই খাই
খাবার পেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ি।
বড় পেটের বড্ড ক্ষুধা
খাচ্ছে বাড়ি-গাড়ি,
তাপরেও মেটেনা সাধ
চাচ্ছে কাড়ি কাড়ি।
ছোট্ট খোকার দুধের তৃষা
মায়ের কোলের মাঝে,
গরুর দুধে ফিডার ভরে
মা চলে যায় কাজে।
কারো ক্ষুধা জমি দখল
কারো ক্ষুধা মানি,
কারো আবার যৌনক্ষুধা
রাতের মক্ষীরাণী।
নিরন্নেরই ক্ষুধা পেটের
চায় দু-বেলা ভাত,
ফুটপাথের ঐ পাগলীটার
ক্ষুধায় কাটে রাত।
ক্ষুধার জ্বালায় কেউ খায় ঘুষ,
ক্ষুধায় ক্ষুধায় সবাই বেহুঁস।
ক্ষুধাই যেন মানব জাতির
একটি মাত্র ধ্যান,
আকন্ঠ পান করে বলে কেউ
আরো খানিক দ্যান!
কত্তো ক্ষুধা আশেপাশে
হয়না লিখে শেষ,
সিংহাসনের ক্ষুধায় কেউবা
খাচ্ছে বাংলাদেশ!

কইয়া দিমু! (পার্ট - ০১)

আমাগো দ্যাশের জ্ঞানপাপীগো
ইতিহাস চর্চার ধরন দেইখ্যা
বড়ই শরম লাগে!
হুজুগে বাঙালি নাম কি আর
এমনি এমনি হইছে!
"অজ্ঞানম তিমিরান্ধস্য, জ্ঞানম যেন স্বলাকায়ো" -
এই কথার মানে হইলো,
"অজ্ঞানীর (মুর্খ্যের) কাছে
যা তিমির-এর মত অন্ধকার,
জ্ঞানীর কাছে তা স্ব-মহিমায় আলোকিত"
আর আমাগো কাট-পিছ্
খাওইন্যা ইতিহাসবিদরা কইবো,
"অজ্ঞানের কাছে যা তিন-মন দশ-সের,
জ্ঞানীর কাছে তা সোলার মতো হালকা!"
পার্থক্য বোঝা গ্যালো!?
হ! মিনিং কাছাকাছি
কিন্তু গভীরতায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য!
"পার্থক্য" বুঝাইতে গ্যালেতো আর এক বিপদ!
উচ্চারণ করবা "হাইত্থুক্য"!
কেউ যদি কয়, ভাই! ওইডা "হাইত্থুক্য"না, "পার্থক্য"!
তারপর কইবা, আরে! ওই হইলো!
"হাইত্থুক্য" আর "হাইত্থুক্য'র" মইধ্যে
কোনই "হাইত্থুক্য" নাইক্যা!
তোমরাতো উচ্চারণ শিখো নাই!
আমার মতো আঞ্চলিক বাংলায় কতা কও!
আমার জাত-ভাই, বাঙালি না?
তোমাগো! সরি!
আমাগো তো জিহবা আরষ্ট!
ছোট্ট কাল থিকা বিভিন্ন ভাষা শিখতে গিয়া
সব আউলাইয়া গ্যাছে!
কুয়ার ব্যাঙরে যদি জিগাই,
পৃথিবীডা দ্যাখতে ক্যামুন?
হ্য়ে কুয়ার বর্ণনাই দিবো!
তোমরা ইতিহাস চর্চা করো, না!?
ফাইজলামি করোনের আর
জায়গা পাও না!?
গাছের মাঝখানের ডালে বান্দর ঝোলা ঝোলো!
ইতিহাস লইয়া কতা কইতে হইলে
গাছের শিকড়ের কাছে যাও, বুঝছ!
হিস্টিরির তো তোমরা হিস্টিরিয়া বানাইয়া দিছো!
ধূর ছাই! কাগো কি কই!
গত তেতাল্লিশ বছরের ইতিহাসরেই তো
চিপরাইয়া তিতা বানাইয়া ফ্যালাইছো!
আমারে খ্যাপাইওনা কইলাম!
হাটে হাড়ি ভাইঙ্গা দিমু কিন্তু!
সব জাইন্যা ফ্যালাইছি!
ইতিহাসের মিলিমিটার, সেন্টিমিটার সব!
একটু নাড়া দিবা তো বার্স্ট (Bang!) ... ... (চলবে)

২৯.১২.২০১২  © প্রদ্যোত

দেহজ প্রেম্যালার্জি

তোমার স্ট্রাকচার, মেইক আপ, গেট আপ, সেট আপ
যতোই চিত্তাকর্ষক হোক না ক্যানো
আমাকে যৎসামান্যই পুলকিত করে
এবং তাও খুবই অল্প সময়ের জন্য
তাই বলে আমি অক্ষম নই
আমার সকল ইন্দ্রিয়ই সজাগ
এবং একটু বেশি সজাগ বলেই যতো বিপত্তি
হয়তো কোনো রোমানন্টিক কবি
তোমার কেশ বিন্যাস নিয়ে
মহাকাব্য রচনা করে ফেলবে
আমি ভাববো নিয়মিত শ্যাম্পু
কন্ডিশনার ব্যবহার করো কিনা
খুসকি আর উকুনের দৌরাত্ম্য কতোটা সেখানে
পটল চেরা চোখের গভীরে প্রশান্ত
জলাশয় খুঁজবে কবি
আমি দেখবো চোখে পিচুটি আছে কিনা
কল্পনা প্রবন কবিদের শব্দালংকার
আলোড়িত করবে না আমাকে
ওরা দুর থেকে দেখেই কল্প-স্বর্গ রচনা করে
আমি রিয়েলিটিতে রিয়েল কাউকে খুঁজি
ভিজুয়্যাল পারফেকশন আমাকে
সেনজুয়াল স্যাটিসফেকশন দেয় না
তাইতো আমি ভাবি
নিয়মিত নাক-কানের ময়লা পরিষ্কার করো কিনা
দাঁত কয়বার ব্রাশ করো
দাঁতে পাইরিয়া আছে কিনা
নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ ছড়ায় কিনা
ত্বকে কয় স্তরের পুরু ময়লার আস্তরন জমেছে
আন্ডার আর্ম কতোদিন পরিষ্কার করোনা
ঘামে ভেজা শরীরে ব্যাকটেরিয়া
আর পারফিউমের ককটেল কতোটা কটু
নখের ময়লায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যাবে কী
কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, ফেস্টুলা, লিউকোরিয়া
তোমার কতোটা আপন
দাউদ, এ্যাকজিমা, খুঁজলি'র সাথে
ক্যামন সখ্যতা তোমার
হাইজিনের ক্ষেত্রে কতোটা সচেতন তুমি
আমি ভাববো পায়ের গোড়ালি ফাটে কিনা
নখের কোনে চিপা হয়েছে নাকি
আমি জানতে চাই
তুমি পাবলিকলি নাক-কানের ময়লা ঘাটানো কিংবা দাঁত খিলাল করো নাকি
সজোরে হাঁচি দিয়ে দুই হাত ডলো কিনা
সর্দি কফ প্রকাশ্যে ঝাড়ো
গ্যাস নির্গমনের বেলায় নিশ্চই জানান দাওনা
প্রতিদিন স্নান করোতো
আন্ডার গার্মেন্টস প্রতিবার
ব্যবহারের পর পরিষ্কার করো কিনা
ধোয়া পোষাক কয়বার ব্যবহার হয়
মোজা থেকে উৎকট গন্ধ নিশ্চই ছড়ায়
আচ্ছা ঘুমের সময় কী নাক ডাকো
আমার এ্যালার্জি আমায় কারো
প্রতি আকৃষ্ট হতে দেয় না

০২.০৪.২০১৫  © প্রদ্যোত

প্যারোডিঃ লুংগি ড্যান্স

লইছি চাঞ্চ

দিস্ ইজ দ্য ট্রিবিউট টু "চালাই যা"
চেহারাডারে ইয়ো বানাইয়া,
হানি সিং-কাটিং চুলডা ছাডাইয়া,
হাত-কান-গলাতে গয়না লাগাইয়া,
গন্ধ শরীরে পারফিউম মাখাইয়া (২)
ডিনারে করি লাঞ্চ, চালাই যা!
লমু লমুই চাঞ্চ, চালাই যা! (২)
লইছি চাঞ্চ, লইছি চাঞ্চ ... ... (১৬)
ভাব আছে বাইরে ভিতরডা ফাঁকা,
উড়াই বাপের অবৈধ টাকা,
সাত বাই চব্বিশ ফিলিংসে থাকা,
ডিলিংসের পথ সবগুলা বাঁকা (২)
আমিতো হালায় এই যুগের মামু,
মৌজ-মাস্তিতে জীবন কাডামু,
ক্যাঠায় হুনবো কোন হালার বাণী,
আমিতো শমশের, সবকিছু জানি,
আজাইরা কামের আমিতো গুরু,
শেষ হওয়ার পর করমুইতো শুরু,
আমার দলে ড্যুড আছো যতো,
আসো লাফাই ব্যাঙের মতো।

১৬.০৫.২০১৫ © প্রদ্যোত